০৪। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী:
পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচীর আওতায় জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক শিক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্লিনিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবাদানের ব্যবস্থা করা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ করা, শিশু জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত নিবন্ধন সংরক্ষণ করা (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়/সংশিষ্ট বিভাগের পূর্বানুমতিক্রমে গ্রহণ করতে হবে)।
০৫। নারী কল্যাণ কর্মসূচী :
সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নারীসমাজকে নির্ভরশীলতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা। নারী অধিকার ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরণের কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম ও কনফারেন্সের আয়োজনসহ নির্যাতিত মহিলাদের আইনগত সহায়তা প্রদান করা। মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্ব-নির্ভর করার জন্য বিভিন্ন দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এককালিন আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা।
০৬। কৃষি, মৎস্য ও পশু সম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচী:
সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে কৃষি ক্ষেত্রে জন সাধারণকে উদ্বুদ্ধ করণ, উৎসাহ প্রদান এবং এর মাধ্যমে উন্নত পদ্ধতিতে ফলন বৃদ্ধি করতে কৃষকদের শিক্ষার মাধ্যমে যুগোপযোগী কৃষক হিসাবে গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে কৃষি উপকরণ বীজ, সার, ঔষধ ইত্যাদি সহজে এবং সুলভ মুল্যে প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং ছোট বড় হিমাগার প্রতিষ্ঠা করে কৃষকদের উৎপাদিত পন্য সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা এবং প্রদর্শণী খামার তৈরী করা। মাশরুম চাষ, মৌমাছি পালন, রেশম পোকা পালন, হাঁস, মুরগী, মৎস্য, ছাগল ও গরুর খামার প্রতিষ্ঠা করা এবং এ সম্বন্ধে বেকার যুবক-যুব মহিলা ও সংশিষ্ট চাষীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
০৭। দারিদ্র বিমোচনে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী:
সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে দারিদ্র বিমোচন সম্পর্কিত কর্মসূচীর আওতায় দুঃস্থ ভূমিহীন, বিত্তহীন, গৃহহীন এবং নিম্ন আয়ের জনগণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচী গ্রহণ। শিক্ষিত বেকার অবহেলিত যুবক-যুব মহিলা, বিধবা মহিলাদের প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ ও আয়বৃদ্ধি কর্মসূচী পরিচালনা করা।
০৮। বিভিন্ন প্রকার সামাজিক কার্যক্রম:
ধুমপান ও অন্যান্য মাদক দ্রব্য বর্জন করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বিবাহ নিবন্ধন (কাবিন) কার্যক্রমে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ। বন্যা, ঝড়, মহামারী ইত্যাদির কারণে দুর্গত মানুষের সেবা ও পুনর্বাসন কর্মসূচী গ্রহণ। সমাজের অন্ধত্ব ও গোঁড়ামি, সমাজের কুসংস্কার ও নির্যাতন এবং সামাজিক অপরাধমূলক প্রবণতা রোধ করার জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদির পদক্ষেপ গ্রহণ করে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধকরণ ও সহায়তা প্রদান করা। বে-ওয়ারিশ লাশ দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা।
৯ I পরিবেশ সংরক্ষন কর্মসূচী:
সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে উন্নয়ন উপযোগী পরিবেশ সংরক্ষণ। এ লক্ষ্যে বৃক্ষরোপন, বনায়ন, নার্সারী প্রকল্প গ্রহণ ও পরিবেশ-দূষণমুক্ত কর্মসূচী গ্রহণ করা (সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে)।
১০। মানব সম্পদ উন্নয়নে কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন:
সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মানব সম্পদ উন্নয়নে সামগ্রীক কার্যক্রম গ্রহণ করে দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানোর জন্য শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
১১। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সম্পর্কিত কর্মসূচী:
সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সম্পর্কিত কর্মসূচির আওতায় শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মহিলাদের দেশী বিদেশী রান্নার প্রশিক্ষণ প্রদান, নকশী কাঁথা বুনন, কাঁথা সেলাই, বক-বাটিক ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
১২। সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার সাথে সৌহার্দমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা:
কার্যক্রমের সুবিধার্থে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা। সরকারী ও বেসরকারী সকল সংস্থার সাথে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পর্ক স্থাপন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যান্য সংস্থার সাথে যোগাযোগ স্থাপন (সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে)।
১৩। এইডস ও অন্যান্য ব্যধি প্রতিরোধ কার্যক্রম:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে ক্যানসার, এইচ.আই.ভি, এইট্স, পেগ, হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস, সার্স ইত্যাদি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিকল্পিত ও বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণে জনগনকে উদ্বুদ্ধ করা এবং এ সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
১৪। আর্সেনিক প্রতিরোধ কার্যক্রম:
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে আর্সেনিক ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মুক্ত বিশুদ্ধ পানি পানে উদ্বুদ্ধকরণ ও এর প্রতিরোধে কর্মসূচী গ্রহণ করা। পানিতে মানবদেহের জন্য আর্সেনিকের ক্ষতিকর মাত্রা নিরুপন করে সে সব এলাকা ও নলকুপ চিহ্নিত করা।